Advertisement

ফিরে দেখা সেইসব দিনগুলো, যেগুলো আমাদের ছোটবেলা ভরিয়ে রাখত

বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

বাংলা ছবির এক মেঘে ঢাকা তারার কথা

 

বাংলা ছবির এক মেঘে ঢাকা তারার কথা

প্রবীর মিত্র

‘পথের পাঁচালী’ কিছুদিন আগেই রিলিজ করেছে এবং জনমানসে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে।  সত্যজিৎ রায় এবার হাত দিলেন তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘অপরাজিত’–এর কাজে।  একদিন বিকেলে চলে গেলেন চেতলায় সখের সুরসাধক নরেন্দ্রনাথ বর্মনের বাড়ীতে।  নরেনবাবুর সুন্দর মুখশ্রীর অধিকারী ১২ বছরের কিশোরী মেয়ে তন্দ্রাকে রায়বাবু মনে মনে নির্বাচন করেছেন ‘অপরাজিত’ ছবিতে কিশোর অপুর কিশোরী প্রেমিকা, লীলার চরিত্রে।  কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং হোল বেশ কিছুদিন ধরে শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন-এ, বাবা নরেন্দ্রনাথ ভীষণ খুশী, প্রবল উৎসাহ দিতে থাকলেন মেয়েকে, ইতিমধ্যে একসঙ্গে দেখে এলেন ‘পথের পাঁচালী’ ছবিটি।  কিন্তু সত্যজিৎবাবু ছবির এডিটিং-এর সময় সিদ্ধান্ত নেন ছবিতে অপুর মা ছাড়া আর কোনও মহিলা চরিত্র ছবিতে রাখবেন না, ফলে তন্দ্রা বর্মণের সাথে কিশোর অপুর প্রেমপর্বের অংশে কাঁচি পড়ল এবং জীবনের প্রথম ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের মতো ব্যাক্তিত্বের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েও বাদ পড়লেন বাংলা ছবির একসময়ের অতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী তন্দ্রা বর্মণ।  

 

অভিনেত্রী তন্দ্রা বর্মণ

 ১৯৪২ সালের ৩১শে আগস্ট বারুইপুরে মামার বাড়ীতে তন্দ্রার জন্ম এবং ছোটবেলা তাঁর সেখানেই কেটেছিল, যদিও তাঁদের আদি নিবাস ছিল হুগলীর সিঙ্গুরে।  এরপর তাঁরা সপরিবারে কোলকাতার চেতলা অঞ্চলে একটি বাড়ীভাড়া করে চলে আসেন। পরে চলে যান হিন্দ সিনেমার কাছে একটি ফ্ল্যাটে।  ছোটবেলা থেকেই বাবা নরেন্দ্রনাথের উৎসাহে নাচ,গান ও সেতারবাদনে বেশ পারদর্শিনী হয়ে উঠেছিলেন তন্দ্রা।  সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক প্রেমেন্দ্র মিত্রের সাথে নরেন্দ্রনাথের যোগাযোগ ছিল। তখন প্রেমেন্দ্রবাবু ‘দুই তীর’ নামে

এক টুকরো আগুন ছবিতে কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে

একটি ছবির কাজ শুরু করেছেন।  একজোড়া মায়াবী চোখ ও সুন্দর মুখের জন্য প্রেমেন্দ্র মিত্র তন্দ্রাকে নির্বাচন করলেন ছবিতে, কিন্তু এটিও কিছুদিন শুটিং হবার পর অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেল। এরপর গোবিন্দ বর্মণ প্রযোজিত ‘ভিজে বেড়াল’ ছবিতে অনুপকুমারের বিপরীতে সুযোগ পেলেন তন্দ্রা।    কিন্তু এই ছবিও মুক্তির আলো দেখল না।  তখন কিশোরী তন্দ্রা হতাশায় ভেঙ্গে পড়লেও হাল ছাড়েন নি তাঁর বাবা।   অবশেষে ১৯৫৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘তানসেন’ ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করলেন ষোড়শী তন্দ্রা, পরিচালক নীরেন লাহিড়ী।  হয়তো আগের অভিনীত ছবিগুলিতে প্রবল হতাশার কারণে এই ছবিতে মনপ্রান ঢেলে অভিনয় করেছিলেন তন্দ্রা।  
সত্যজিৎ রায়ের অপরাজিত ছবিতে স্মরণ ঘোষালের সাথে তন্দ্রা

১৯৬০ সালে অভিনেতা বিকাশ রায় তন্দ্রাকে ডেকে নিলেন তাঁর নিজের পরিচালিত ছবি ‘কেরি সাহেবের মুন্সি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য।  ছবিতে তন্দ্রার পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন তৎকালীন তাবড় সব অভিনেতা অভিনেত্রীরা যেমন, ছবি বিশ্বাস, মঞ্জু দে, পাহাড়ি সান্যাল, তুলসী চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পীগণ।  ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি তন্দ্রাকে বাংলা চলচ্চিত্রের লাইমলাইটে আনতে খুব সাহায্য করেছিল। সুরকার রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে এই ছবির গানগুলি গেয়েছিলেন গেয়েছিলেন শ্যামল মিত্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় প্রমুখ শিল্পী।
  ছবিতে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা শ্যামল মিত্রের কণ্ঠে একটি গান ‘কি হোল রে জান, পলাশী ময়দানে নবাব হারল তাঁর প্রাণ’ সেইসময় লোকের মুখে মুখে ফিরত।   

 অভিনেতা বিকাশ রায় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

 পরের বছর অর্থাৎ ১৯৬২ সালে পরিচালক অজয় কর, লেখিকা প্রতিভা বসুর কাহিনী অবলম্বনে   ‘অতল জলের আহ্বান’ ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় বড় একটা ব্রেক দিলেন তন্দ্রা বর্মণকে, বিপরীতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। 

‘অতল জলের আহ্বান’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর সাথে

ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়।  ছবিতে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, ছায়া দেবী, ছবি বিশ্বাস, জহর রায়ের সাথে চুটিয়ে অভিনয় করেছিলেন তন্দ্রা।   এর আগে  তন্দ্রার ঝুলিতে ছিল মাত্র দুটি মুক্তি প্রাপ্ত ছবি, ‘তানসেন’ ও ‘কেরী সাহেবের মুন্সী’।  একেবারে আনকোরা তন্দ্রাকে নায়িকার ভূমিকায় নির্বাচন করার জন্য পরিচালক অজয় কর একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন।  কিন্তু তাঁর আগের দুটি ছবিতে তন্দ্রার অসাধারন অভিনয় অজয় করকে মুগ্ধ করেছিল।  এই ছবিতে তন্দ্রা বর্মণের লিপে একটি গান ছিল, ‘ভুল সবই ভুল’ – এই জীবনের পাতায় পাতায় যা লেখা সবই ভুল, এই শ্রাবণে মোর ফাগুন  যদি দেয় দেখা সে ভুল, ভুল সবই ভুল’। গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে গানটি গেয়েছিলেন সুজাতা চক্রবর্তী।  গানটি
ছবির পোস্টার

এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে সেইসময় প্রায় নিয়মিত ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠানে রেডিওতে এই গান বাজত।  এই একটিমাত্র গান গেয়ে সুজাতা চক্রবর্তী সকলের কাছে পরিচিতি পেলেন, কিন্তু হায় এরপর কোন এক অজানা কারণে সুজাতাদেবীর কণ্ঠে আর কোন গান প্রকাশ পায় নি রেকর্ডে।   কোথা থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো এক সুরের জহুরী সুজাতাকে খুঁজে বের করলেন অথচ তাঁর পরবর্তী কোন ছবিতে বা বেসিক গানে গায়িকা সুজাতাকে আর কোন সুযোগই দিলেন না, সেটা আজও এক গভীর রহস্য।  এই একটি মাত্র জনপ্রিয় গান গেয়ে চিরতরে হারিয়ে গেলেন সুজাতা চক্রবর্তী।   ১৯৬২ সালের ২৫ শে মে কোলকাতার বিখ্যাত প্রেক্ষাগৃহ, শ্রী, লোটাস ও ইন্দিরাতে মুক্তি পায় অজয় কর পরিচালিত ‘অতল জলের আহ্বান’ ছবিটি।   আজ এতো বছর পরেও এই ছবি ও ছবির এই গানটি সমান জনপ্রিয়। 

এরপর একে একে মুক্তি পায় তন্দ্রা বর্মণ অভিনীত ‘দুই বাড়ী’, ‘ন্যায়দণ্ড’, ‘এক টুকরো আগুন’, ‘সেবা’, ‘দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন’, ‘চেনা মুখ’ ইত্যাদি ছবি। এইসব ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন অসিতবরন, বিশ্বজিৎ, কালী ব্যানার্জি প্রমুখ শিল্পীদের সাথে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এক টুকরো আগুনছবিতে বিশ্বজিতের বিপরীতে তিনি অভিনয়ের সাথে সাথে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ওগো মোর প্রিয় বন্ধুগানটি তাঁর লিপে খুবই জনপ্রিয় হয়।  প্রচুর ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও, চরিত্র মনের মতো হয়নি বলে, অনেক ছবি করেননি। শোনা যায়, তপন সিংহেরহাঁসুলী বাঁকের উপকথাছবিটিরও প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৭০সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি, ‘মঞ্জরী অপেরা’ ছবিতে উত্তমকুমারের সন্দেহবাতিকগ্রস্থ স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন তন্দ্রা। সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে এই ছবির পরিচালক ছিলেন অগ্রদূত।  তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ছিল ‘আমি রতন’, ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বাংলাদেশের আর এক জনপ্রিয় অভিনেতা রজ্জাক।  তন্দ্রার অভিনয়দক্ষতা গুরু দত্তেরও নজর এড়ায় নি তাই তিনি তন্দ্রাকে বোম্বাইতে ডেকে পাঠান একটি ছবির শুটিং-এর জন্য।  গুরু দত্ত বিখ্যাত অভিনেত্রী নার্গিসের মুখের সাথে তাঁর মুখের বেশ মিল খুঁজে পেয়েছিলেন।  গুরু দত্তের ছবিতে অভিনয়ের শুটিং চলাকালীন তাঁর অকাল মৃত্যুতে ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ভগ্নহৃদয়ে তন্দ্রা আবার কোলকাতায় ফিরে আসেন।    

 

১৯৭২ সালে তন্দ্রা বিয়ে করেন সেনাবাহিনীর অফিসার দ্বিজেন্দ্রকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবং তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও হয়। এরপর থেকেই রূপোলী পর্দার জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তন্দ্রা বর্মণ।  সাফল্যের মধ্যগগনে থাকা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দিতে থাকেন একের পর এক ছবির অফার।  ২০০৪ সালে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের একটি থ্রিলার সিরিজের একটি এপিসোডে তাঁকে শেষবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল এবং তারপরই তিনি অভিনয় জগত থেকে পাকাপাকিভাবে সরে আসেন এমনকি বাইরের জগতের সাথেও তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এ যেন অনেকটা আমাদের মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের মতো।  হয়তো তিনি এসব করেছিলেন পারিবারিক দ্বায়িত্ব অথবা সিনেমা জগত সম্পর্কে তাঁর মোহভঙ্গের কারণে।  সত্যজিৎ রায়ের ছবি থেকে বাদ পড়ে যাওয়াটাও তিনি ভুলতে পারেন নি আজীবন পাশাপাশি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের সাথে একসঙ্গে অভিনয় করতে না পারার আফসোসও তাঁর মধ্যে ছিল।  জীবনের শেষ কটা দিন তিনি দক্ষিন কোলকাতার প্রতাপাদিত্য রোডের একটি বাড়ীতে থাকতেন এবং অত্যন্ত সাধারন জীবনযাপন করতেন।  দোকান, বাজার বা ব্যাঙ্কে তিনি যখন কোন কাজে যেতেন তখন তাঁকে কেউ অতীতদিনের খ্যাতনামা অভিনেত্রী তন্দ্রা বর্মণ হিসাবে কেউ চিনতেই পারেন নি। আসলে চিত্রতারকাসুলভ গ্ল্যামারাস জীবনযাপনে তিনি একেবারেই অভ্যস্ত ছিলেন না।  ২০১৮-এর ১৯শে ফেব্রুয়ারি ওরাল ক্যান্সারে তিনি আক্রান্ত হয়ে তিনি চিরকালের জন্য হারিয়ে যান।  না তিনি চলে যাবার পর কোন

জীবনের শেষ প্রান্তে তন্দ্রা বর্মণ

মিডিয়া হাউস তাঁর মৃত্যুর খবর কভার করেনি হয়তো ছবির জগত থেকে সরে গেলে মিডিয়াও তাদের চিরতরে ভুলে যায়। সেদিন এই প্রজন্ম জানতেও পারেনি বাংলা ছবির এক মেঘে ঢাকা তারকা নিঃশব্দে শববাহী গাড়িতে ফুলে সুসজ্জিতা হয়ে চলে গেলেন মহাপ্রস্থানের পথে। তবু
‘অতল জলের আহ্বান’ সিনেমার একটা গান তার সাথে তাঁর অবিস্মরনীয় অভিনয় তাঁকে সারাজীবন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর করে রাখবে।

 

তথ্যঋণ ঃ এই সময়, আনন্দবাজার, দ্যা ওয়াল। 

 

 

 

 সুজাতা চক্রবর্তী গাওয়া সেই বিখ্যাত গান যেটি তন্দ্রা বর্মণের লিপে ছিল

 


সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান ওগো মোর প্রিয় বন্ধু গানের লিপে তন্দ্রা বর্মণ ১৯৬৩ তে রিলিজ হওয়া 'এক টুকরো আগুন' ছবিতে   

রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

হারিয়ে যাওয়া সিনেমা

 

আশাপূর্ণার কালো মেয়ের গল্প


আমাদের ছোটবেলাটা ছিল স্যাটেলাইট টিভি বর্জিত সময়। ৮০-এর দশকে বিনোদন বলতে ছিল রেডিও ও কোলকাতা দূরদর্শন-এর মাত্র একটি কি দুটি চ্যানেল। তখন চারিদিকে রঙিন টিভি আসলেও আমাদের বাড়ীতে সাদা-কালো টিভিতে নীল কাঁচ লাগিয়ে দূরদর্শনের অনুষ্ঠান দেখতে নেহাত মন্দ লাগত না। রবিবার সকালে যখন রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ন’ অথবা বি আর চোপরা-র  ‘মহাভারত’ হত তখন রাস্তায় বেরোলে মনে হত যেন কার্ফু লেগেছে, সবার চোখ তখন টি ভি-র পর্দায়। প্রতি শনিবার সন্ধ্যেয় টিভিতে বাংলা ছবি দেখার জন্য মা সব কাজ বিকেলের মধ্যেই সেরে নিত।  আমি আর দাদা কোন কোন সময়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে যেতাম বাংলা সিনেমা দেখতে।  কি অসাধারণ সব ছবি সেই সময় দূরদর্শন সম্প্রচার করত। সাড়ে চুয়াত্তর, মৌচাক, ধন্যি মেয়ে, গুপী গাইন বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে আরও কত কি।  সেই সময় দেখেছিলাম এমন একটা বাংলা ছবি যার গল্প আজও ভুলতে পারিনি।  ছবিটি ছিল পরিচালক পার্থ প্রতিম চৌধুরী-র প্রথম ছবি ‘ছায়াসূর্য’।  

ছায়াসূর্য ছবির পোস্টার

এরপর বিভিন্ন সময়ে যখনই কাগজে দেখেছি ছবিটি আবার টি ভি-তে কোন একটি চ্যানেলে দেখানো হবে তখনই চেষ্টা করেছি আরও একবার দেখবার।  সম্প্রতি একটি অনলাইন প্লাটফর্মে এই কালজয়ী বাংলা সিনেমাটা দেখার আর লোভ সামলাতে পারলাম না, টানা দুঘণ্টা যে কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। যখন কম্পিউটার শাট ডাউন করছি তখনও মনটা একরকমের হ্যাং ওভারে পরিপূর্ণ।  

      

ছবিতে ভি বালসারার মিউজিক্যাল স্কোর ছিল অসাধারন
১৯৬৩ সালে রিলিজ হওয়া এই ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন পাহাড়ী সান্যাল, মলিনা দেবী, বিকাশ রায়, অনুভা গুপ্ত, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণী ঘোষ, আরতি গাঙ্গুলি, নির্মল কুমার, শর্মিলা ঠাকুর প্রমুখ শিল্পীগণ। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যামিও চরিত্রে ছিলেন চারুপ্রকাশ ঘোষ, রবি ঘোষ এবং জ্ঞানেশ মুখার্জি। গল্পের কাহিনী খ্যাতনামা সাহিত্যিকা আশাপূর্ণা দেবী।  ছবিতে অসাধারণ মিউজিক্যাল স্কোর করেছিলেন ভি বালসারা।

আশাপূর্ণা দেবীর লেখনীর সাথে যারা পরিচিত তারাই জানেন যে তাঁর গল্পের মেয়েরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিবাদী নারী। শুধু গল্প কেন, আশাপূর্ণার লেখা উপন্যাসও এর ব্যাতিক্রম নয়, তাঁর বিখ্যাত ট্রিলজি ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’ এবং ‘বকুলকথা’ উপন্যাসের কথা কে না জানে।  তাঁর গল্পের মেয়েরা যেন পাশের বাড়ীর মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী পরিবারের মেয়ে। ঘরোয়া অসহায় মেয়েদের নিয়ে তিনি লিখে গেছেন একএকটি কালজয়ী ছোটগল্প, যেমন এই মুহূর্তে মনে পড়ছে সীমারেখার সীমা, তাসের ঘর, পৃথিবী চিরন্তনী, জালিয়াত, শাস্তি, ছিন্নমস্তা, অনাচার ইত্যাদি সব কালজয়ী গল্প যার মূল বিষয়ই হোল তৎকালীন পুরুষশাসিত সমাজের কিছু মান্ধাতা সিস্টেমের বিরুদ্ধে মেয়েদের প্রতিবাদ। এই ‘ছায়াসূর্য’ গল্পটাও ছিল অনেকটা ঠিক সেই রকম। গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিল একটি

লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী
কালো, কুৎসিত, দুরন্ত, সরল, মারকুটে, ঝগড়ুটে মেয়েকে নিয়ে,যার কথায় কথায় খই ফুটত সারাক্ষণ, পড়াশোনায় লবডঙ্কা । বছর বছর খালি ক্লাসে ফেল করে এবং খেলে বেড়ায় পাড়া-বেপাড়ার যত বখাটে ছেলেদের সঙ্গে । একমাত্র নিজের ছোটকাকা ছাড়া একান্নবর্তী পরিবারে কেউ তাকে দেখতে পারত না । উঠতে বসতে খোঁটা জুটত সবসময় সবার কাছ থেকে ।  কিন্তু ওর নিজের দিদি ছিল ওর থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। সুন্দরী, রুচিসম্পন্না, পড়াশোনায় দারুণ, সবার খুব প্রিয়পাত্রী। বাবা-মা-আত্মীয়দের কত গর্ব তাঁকে নিয়ে । দিদির নাম ছিল চেহারার সঙ্গে একেবারে মানানসই, ‘মল্লিকা’। কালো মেয়েটি, মানে বোনকে সবাই ডাকতঘেঁটু’ বলে । নামকরনের মধ্যেই যেন একটা অবজ্ঞা মিশে, আসলে বাংলায় ঘেঁটু ফুল তো সবচেয়ে উপেক্ষিত ফুলের মধ্যে একটা । কিছুদিন আগেই খবরের কাগজের শ্রুতি দাস নামে এক সিরিয়াল অভিনেত্রীর কথা পড়ছিলাম, যিনি পুলিশের কাছে একটি এফ আই আর করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কৃষ্ণবর্ন নিয়ে তাঁকে অত্যন্ত নোংরা ভাবে ট্রোল করার জন্য।  কাগজে রিপোর্টটা পড়ার সময় আরও একবার মনে পড়ল টেলিভিশনের পর্দায় দেখা ঘেঁটুকে।  

 

১৯৫৭ সাল নাগাদ স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্র পার্থপ্রতিম বন্ধু মনোজ মিত্র ও আরও কয়েকজন সহপাঠী মিলে তৈরি করেন বিখ্যাত নাটকের দল ‘সুন্দরম’। সেই সময় থেকেই নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি পার্থপ্রতিম গল্প লিখতেন ও একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন।  পাশাপাশি সিনেমা জগত তাঁকে যেন নিশির ডাকের মতো হাতছানি দিত।  সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী পার্থপ্রতিমকে মুগ্ধ করেছিল তাই তিনি স্থির করলেন তাঁর নতুন নাটকের দল ‘সুন্দরম’ এর প্রথম মঞ্চস্থ নাটক হবে বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’। পঞ্চাশের দশকের ঠিক সেই সময় কলকাতায় রমরমিয়ে চলছে ‘বহুরুপী’-র পুতুলখেলা নাটক, উৎপল দত্ত করছেন ম্যাস্কিম গর্কির ‘নীচের মহল’ নাটক, বিজন ভট্টাচার্য করছেন ‘মরা চাঁদ’ নাটক আর এসবের মধ্যে সেই সময় ‘সুন্দরম’ গ্রুপের ‘পথের পাঁচালী’ নিঃসন্দেহে একটি দুঃসাহসিক কাজ।  কিন্তু সকলের আপত্তি কানে না তুলে পার্থপ্রতিম বিশ্বরুপা মঞ্চে কাশবনের মধ্যে দিয়ে লাইটের মাধ্যমে রেলগাড়ি ছোটালেন এবং তার সাথে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ ছবির বেশ কিছু আইডিয়া প্রয়োগ করলেন মঞ্চে, নিজে দুর্দান্ত অভিনয় করা সত্বেও দর্শক  ‘সুন্দরম’ প্রথম প্রযোজনা নিল না কারণ তাঁদের মাথায় তখন মানিকবাবুর ‘পথের পাঁচালী’-র স্মৃতি টাটকা। এরপর আর বেশীদিন থিয়েটারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না, মন দিলেন চিত্রনাট্য লেখা ও সিনেমার দিকে। তাঁর পরিচালিত সিনেমার সংখ্যা মাত্র আট হলেও প্রত্যেকটি সিনেমা বিশেষ পারদর্শিতার নিরদর্শন রাখে।  মাত্র ২৫ বছর বয়সে পার্থপ্রতিম ১৯৬৩ –তে ‘ছায়াসূর্য’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘শুভা ও দেবতার গ্রাস’, ‘দোলনা’, ‘হংস মিথুন’, ‘যদুবংশ’, ‘শুভ কেমন আছো’, ‘রাজবধূ’, ‘পূজারিণী’ প্রভৃতি ছবি। এক একটা ছবি এক এক রকম স্টাইলের। বিমল করের কাহিনী অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত ছবি ‘যদুবংশ’-তে ‘গনা-দা’ রুপী উত্তমকুমারকে ভোলার নয়।  যেহেতু তাঁর লেখার হাত ছিল খুব ভালো তাই নিজের সিনেমা ছাড়াও বেশ কিছু অন্য সিনেমার চিত্রনাট্যও তিনি লিখেছিলেন যেমন অজয় কর পরিচালিত ‘পরিনীতা’ ছবির চিত্রনাট্য তাঁরই লেখা।  অসিত সেন-এর বিখ্যাত ছবি সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘দীপ জ্বেলে যাই’–এর সহ পরিচালকের ভুমিকাতেও ছিলেন পার্থপ্রতিম   

 

এই এক আমার দোষ হচ্ছিল পরিচালক পার্থ প্রতিম চৌধুরী-র প্রথম ছবি ‘ছায়াসূর্য’ নিয়ে চলে গেলাম ওনার ফিল্মি কেরিয়ারে।   তা যা বলছিলাম ‘ছায়াসূর্য’-তে ঘেঁটুর

ঘেঁটুর ভূমিকায় শর্মিলা ঠাকুর

ভুমিকায় অনবদ্য অভিনয়ের আগেই শর্মিলা ঠাকুর করে ফেলেছিলেন পাঁচটি বাংলা ছবি তার মধ্যে দুটি ছবি ছিল সত্যজিৎ রায়ের (অপুর সংসার ও দেবী) এবং একটি ছিল তপন সিনহার ছবি ‘নির্জন সৈকতে’। এছাড়া আরও দুটি ছবি ছিল শেষ অঙ্ক (বিপরীতে উত্তমকুমার) ও বর্ণালী (বিপরীতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়)।  ছবিগুলি দেখার সময় থেকেই পার্থপ্রতিম মাথায় রেখেছিলেন তাঁর প্রথম ছবির প্রধান চরিত্র হবেন শর্মিলা ঠাকুর ।
কী অসামান্য অভিনয় করিয়ে নিয়েছিলেন পরিচালক শর্মিলাকে ।  মেকআপ শিল্পী ফর্সা শর্মিলাকে ছবিতে পুরো কালো করে দিয়েছিলেন। গল্পতে ঘেঁটুর সারল্য, নিজের কালো রঙের জন্য প্রত্যেকের কাছে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হওয়া, সব সময় নিজের সুন্দরী দিদির সঙ্গে তুলনা অথচ ঘেঁটুর ভিতরে যে একটা সুন্দর মন লুকিয়ে আছে, সে ভালোবাসে একটি বেকার চালচুলোহীন ছেলেকে এবং সেও তার দিদির মতো একটি সুন্দর সংসার পাততে চায় সেই প্রেমিকের সাথে।  অত বড় বিশাল বাড়িতে ঘেঁটুর নিজের লোক বলতে তার নিজের সাহিত্যিক ছোটকাকা। তিনিই একমাত্র পড়তে পারেন তার আদরের ভাইজি-র মনের ভাষা। অত বড় বিশাল বাড়িতে সকলের প্রচণ্ড অবহেলার মধ্যে ছোট থেকে তাকে স্নেহের আড়াল করে রাখতেন ঘেঁটুর এই কাকা আর এই চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন নির্মলকুমার।   ছবিতে হেমন্ত মুখার্জির গাওয়া একটি অসাধারণ রবীন্দ্রসঙ্গীত এসো আমার ঘরে এসোগানের মাঝে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘেঁটুরুপী শর্মিলা এসে পৌঁছয় তার
ছোটকাকা নির্মলকুমারের অভিনয় ভোলার নয়

বেকার প্রেমিকের বাড়ী। ঘেঁটুর বেকার প্রেমিকের ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন থিয়েটারের খ্যাতনামা অভিনেতা অরুন মুখোপাধ্যায় কিন্তু তাকে পরিচালক পার্থপ্রতিম চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে ব্যাক ক্যামেরায় ধরেছিলেন।  যারাই এই সাদাকালো
সিনেমাটি দেখেছেন তারাই জানেন এই রবীন্দ্রসঙ্গীতের কি অসাধারণ ব্যবহার হয়েছিল ছবিতে।  আরও একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ছিল এই ছবিতে, ‘মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে তুমি’, গেয়েছিলেন চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং সুমিত্রা সেন।  ঘেঁটু বিকেল পাঁচটা বাজলেই সবকিছু ফেলে ছুটে যেত তার প্রেমিকের কাছে, মেসবাড়ীর একটি ভাঙ্গাচোরা ঘরে, যেখানে নিজের বাড়িতে সবার কাছে পাওয়া উপেক্ষা, যন্ত্রণা ছাপিয়ে জেগে উঠত এক মানসিক তৃপ্তি, টোলপড়া মুখ ভরে উঠত এক নিস্পাপ হাসিতে।   এর মাঝে এক সময় সে কাকার সঙ্গে রাঁচিতে বেড়াতে যায় কিছুদিনের জন্য এবং সেখানে আলাপ হয় গিরিজাবাবু নামে এক মজার লোকের সাথে যিনি দুইবেলা আসতেন ঘেঁটুর সাহিত্যিক কাকার কাছে তাঁর
ছোট্ট চরিত্র কিন্তু কি অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন রবি

লেখা গল্প শুনতে এবং গল্পের প্রতিটি লাইন শুনে মাথা নাড়তেন, “বাঃ অসাধারণ লেখা, দারুন দারুন, বহুত আচ্ছা” এইসব বলে, কিন্তু কলকাতায় ফেরার দিন স্টেশনমাস্টারের কাছে  জানা গেল গিরিজাবাবু বদ্ধ কালা, অর্থাৎ এতদিন নির্মলকুমার এক বদ্ধকালাকে গল্প শুনিয়ে এসেছেন আর সেটা জেনে কাকা-ভাইজি হেসে লুটোপুটি আর ঠিক এইসময় পার্থপ্রতিমের ক্যামেরা ফোকাস করে রেলস্টেশন-এ অনাহুতের মতো গুটিগুটি পায়ে আসা গিরিজাবাবুর উপর, ওফ কি অসাধারন করুন এক্সপ্রেশন, ধরা পড়ে যাওয়া গিরিজাবাবু রূপি রবি ঘোষের।  

 

ছবির শেষ পর্ব ছিল খুব করুন ।  আমার ব্যাক্তিগত বিচারে ছবির এই শেষ দৃশ্য আমার দেখা হিন্দি বাংলায় শর্মিলা ঠাকুরের অভিনয় জীবনের সবচাইতে সেরা দৃশ্য। অনেক আশা ছিল ঘেঁটুর প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে একটা সুখের সংসার পাতবে কারণ কার তার নিজের বাড়ীতে না ডাক্তার, না ইঞ্জিনিয়ার, একটা অতি সাধারন বি.এ. পাশ করা বেকার ছেলেকে কেউ জামাই হিসাবে মেনে নেবে না।  হতাশ প্রেমিককে ঘেঁটু সবসময় সান্ত্বনা দিত একটা চাকরী ঠিক জুটে যাবেই তার।  কিন্তু ঘেঁটুর সেই গরীব বি.এ. পাশ বেকার প্রেমিক মারা যায়।   তাঁর শেষকৃত্যের জন্য একটা পয়সাও ছিল না।  বাধ্য হয়ে ঘেঁটু বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ টাকা চুরি করে এনে প্রেমিককে শ্মশানে দাহ করে এবং মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বাড়ী ফিরে তার কপালে জোটে চোর অপবাদ ও লাঞ্ছনা।

ছবির শেষ দৃশ্যে কাকার কাছে ভেঙ্গে পড়ে ঘেঁটু

 
সেদিন
আবার ঘটনাচক্রে ঘেঁটুর সুন্দরী দিদি মল্লিকার ধুমধাম করে বিয়ে হচ্ছে বাড়ীতে।  প্রচুর লোক, কিন্তু কেউ বিধ্বস্ত ঘেঁটুর দিকে ফিরেও দেখছে না, ছোটকাকার কাছে ঘেঁটু বলে এটাই ভালো হোল ওমন একটা চালচুলোহীন ছেলের সাথে পালিয়ে বিয়ে করলে পরিবারের সবার মাথা হেট হয়ে যেত।  শেষে কাকার আদরের ভাইজি কাকার কাছে অনুরোধ করে, “আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখবে ছোটকাকা?, যে একটা ঘর চেয়েছিল।” ছবির একদম শেষ কয়েকটি ফ্রেমে দেখা যায় ঘেঁটু একটা রজনীগন্ধার স্টিক হাতে নিয়ে বাড়ীর গেটে চুপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে আর অপরদিকে তার দিদি মল্লিকার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছে তার সদ্যবিবাহিত স্বামী। আজ এত বছর পর আবার সিনেমাটা যখন দেখলাম তখন ওই একটা সাধারন কালো মেয়েকে নিয়ে লেখিকা  আশাপূর্ণা দেবী ও পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরীর অসাধারণ মেলবন্ধন দেখে একরাশ মুগ্ধতা ও তার সাথে কিছুটা বিষণ্ণতায় মন ভরে গেল।  আজ মহাপঞ্চমী, সকল বাংলার সকল ঘেঁটুর ভালো হোক।    

পরের বছর শর্মিলা ঘেঁটু থেকে হয়ে গেলেন চম্পা চামেলি, কাশ্মীর কি কলি ছবিতে

 
ছায়াসূর্য’ মুক্তির ঠিক পরের বছর শর্মিলা করলেন তার প্রথম হিন্দিছবি কাশ্মীর কি কলি’, শাম্মি কাপুরের বিপরীতে। ছবিটি দেখার সময় ফর্সা টকটকে চম্পারূপি শর্মিলা ঠাকুরকে ঠিক মেলাতে পারছিলাম না আমার দেখা কালো ঘেঁটুর সাথে। সৌন্দর্যে, ব্যক্তিত্বে, প্রেক্ষাপটে, জনপ্রিয়তায়, আভিজাত্যে উৎরে গিয়েছিলেন শর্মিলা, অভিনয় মোটামুটি, আমার খুব একটা ভালো লাগেনি কাশ্মীর কি কলি’, তবে আশা ও মহ রফির গানগুলো ছিল ফাটাফাটি। 

শেষকথাঃ - অনেক খুঁজলাম পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরীর একটা ছবি কিন্তু হায় গুগুল আমাকে ওনার জায়গায় দেখাল পরিচালক প্রভাত রায়ের ছবি, কোন সহৃদয় ব্যাক্তির কাছে যদি ওনার ছবি থাকে তাহলে আমাকে অনুগ্রহ করে মেইল করে দেবেন এই লেখার সাথে ওনার একটা ছবি থাকা উচিত।    

ঋণস্বীকার ঃ- মনোজ মিত্রের সাক্ষাৎকার, রুপায়ন ভট্টাচার্য, এই সময় ও ছায়াসূর্য সিনেমা।   

 ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া সেই কালজয়ী রবীন্দ্রসংগীত

 

প্রবীর মিত্র

১০/১০/২০২১ - সবাইকে শুভ পঞ্চমীর শুভেচ্ছা জানাই।